Author name: সম্পাদক

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৯

পর্ব-৯ লন্ডন ও ভিয়েনা থেকে ফিরে আসার পরে আমার পরিবার নিশ্চিত যে, আমি আর কখনো কথা বলতে পারব না, গান কবিতা লিখতে পারব না, যতদিন বাঁচি এই পঙ্গুত্ব নিয়ে আমাকে থাকতে হবে। সবাই কিছুটা নির্ভার হয়ে সংসার-কর্মে মন দিতে শুরু করেছে। শাশুড়ি নেই, প্রমীলা পঙ্গুত্ব নিয়েই বেশ শক্তভাবে সংসারের হাল ধরেছে। সানি ও নিনি এখন

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৯ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৮

পর্ব-৮ আজ ৮ জুন ১৯৫৩ সাল, আমি লন্ডনে এসে পৌঁছালাম। সুস্থ অবস্থায় লন্ডনে আসতে পারি নি। বেড়াতে আসারও সামর্থ্য ছিল না—লেখাপড়ার জন্য তো নয়ই। আমি যাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি, যাদের কর্মে ও দর্শনে আকৃষ্ট ছিলাম, তাদের অনেকে লন্ডনের স্কুলে পড়েছিল। এমনকি রবীন্দ্রনাথ অরবিন্দ—আমার গুরু হলেও তাদেরও প্রধান পাঠ ছিল এই লন্ডনে। গান্ধী, জিন্নাহ, নেহেরু এই

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৮ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৭

পর্ব-৭ রহস্যজনকভাবে ভয়ংকর ‘দীর্ঘ ছুরির সপ্তাহ’ পরের এক বছরের মাথায়, ঠিক একই দিনে এই ঘটনা ঘটে। মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা দেশ হওয়ায় ভারত থেকে অনেকে পাকিস্তানে চলে গেছে। জসীম, নাহার, মঈনউদ্দীন, বন্দে আলী, গোলাম মোস্তফা, কাদির, আব্বাস, ফিরোজা, সওগাতের নাসিরউদ্দিন এখন পাকিস্তানে থাকে। এছাড়া এ. কে. ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দি, নাজিমউদ্দিন, মনসুর, বাহার—যাদের প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় পাকিস্তান

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৭ Read More »

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৬

পর্ব-৬ ১৯৪৬ সাল। আমার শাশুড়ি গিরিবালা দেবী ‘কোলকাতা গ্রেট কিলিং’ বা ‘দীর্ঘ ছুরি সপ্তাহ’র মধ্যে চিরদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। বলা চলে—এর মধ্য দিয়ে আমার সংসার জীবনের চূড়ান্ত নাটিকার যবনিকাপাত ঘটল। আমার জীবনীকাররা গিরিবালা দেবীর ভূমিকাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে অঙ্কন করেন নি। সংসারে নারীর যে নিভৃত ত্যাগ—গিরিবালা দেবী আমার সংসারে সেই না-দেখা জায়গাটি অধিকার করেছিল।

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৬ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৫

পর্ব-৫ লুম্বিনী হাসপাতালে আমায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তারা ধরেই নিয়েছিল আমি এখন বদ্ধ-উন্মাদ। যে কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারি। আগেই বলেছি, নজরুল নামের কবির উপস্থিতি যদি সত্যি সত্যি আমার শরীরে থাকত, তাহলে সামান্য একটি হাসপাতাল আমায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারত! আমি কি এখানে এদের খাতায় ব্রিটিশ রাজের চেয়েও ভয়ংকর অপরাধী? তারাও তো

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৫ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৪

পর্ব-৪ আমি এখন নিজের বর্জ্যের মধ্যে বসে আছি। নিজের মল ও মূত্রের মধ্যে মাখামাখি করছি। শরীর থেকে পরিত্যক্ত পদার্থ দুই হাতে চটকাচ্ছি। এ নিয়ে আমার কোনো ঘৃণা নেই, অনুশোচনা নেই। কেন থাকবে? মানুষের শরীর এখনো বহন করলেও আমি মানুষের বুদ্ধির জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আমি সচ্চিদানন্দ স্তর পার হয়ে বিশ্ব-প্রকৃতির সঙ্গে লীন হয়েছি। আমি

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৪ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৩

পর্ব-৩ আজ কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না আমার সচ্চিনানন্দ অবস্থায় পৌঁছানোর কথা। যারা যোগসাধনা করত, আমি যাদের জন্য এই পথে এসেছিলাম তারাই বিশ্বাস করে নি। নলিনীকান্তকে যেদিন আমার এ অবস্থার কথা বললাম, সেদিন তো সেও আমায় রীতিমতো পাগল ঠাওরালো। আমার এতদিনের বন্ধু ওর আর দীলিপের কারণেও আমার এই যোগের পথে আসা। বরদাপ্রসাদ মজুমদারের সঙ্গে ওরা

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৩ Read More »

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ২

পর্ব-২ এখন আমি শুধুই একটি দেহ। এর আগে যা বলেছি, তা মূলত সেই দেহটাকে যেভাবে দাফন করা হয়েছিল তার কথা। একটি মৃতদেহ কিভাবে এতদিন মাটির উপরে অক্ষত থাকে, গলা পচা দুর্গন্ধ ছাড়া দিব্বি বয়ে বেড়ানো যায়, আমি তার প্রমাণ। হয়তো এটা ঠিক—আমি বলে দেহধারী যে মানুষটা পৃথিবীতে এসেছিল তার হয়তো জীবনাবসান হতে সময় লেগেছিল। কিন্তু

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ২ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১

পর্ব- ১ সানি যখন আমার কবরের উপর কাঁদতে শুরু করল তখন আমি আর কথা না বলে থাকতে পারলাম না। অনেকদিন পরে ছেলেটিকে দেখে এমনিতেই আমার বুকের মধ্যে হু হু করে উঠল। আসলে বাবা হিসাবে আমি কতই-না তাদের উপর অবিচার করেছি। নোয়ার মতো আমিও একজন অক্ষম পিতা—পুত্রদের অনিবার্য মৃত্যু জেনেও তাদের কোনো সাহায্যই করতে পারি নি।

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১ Read More »

 ক্যালকাটা গোয়িং : ৫

পর্ব-৫ চাচা বজলে করিমের লেটোদলে বায়না নিয়ে এসেছি পূর্ব বর্ধমানের মাথরুনে। গ্রাম থেকে এতটা দূর এর আগে কখনো আসা হয় নি। গ্রামটি চুরুলিয়া থেকে প্রায় সত্তর মাইল দূরে মঙ্গলকোট থানায়। এখানে একটি স্কুল মাঠে পৌষমেলায় আমাদের দলের গান গাইতে হবে। কাশিম বাজারের রাজা মণীন্দ্র চন্দ্র বছর দশেক আগে তার পিতা নবীন চন্দ্রের নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা

 ক্যালকাটা গোয়িং : ৫ Read More »