Author name: ড. আনোয়ারুল করীম

ড. আনোয়ারুল করীম ১৯৩৮ সালের ২৩ অক্টোবর, বাংলা ৮ কার্তিক ১৩৪৫ যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার লাউড়ি গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কেশবপুর উপজেলার কড়িয়াখালি গ্রামে। পিতা মরহুম মৌঃ করীম বখশ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় শিক্ষাকাল, শৈশব ও কৈশোর কাটে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। যশোর জিলা স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে ম্যাট্রিক, কলেজের শিক্ষা কুষ্টিয়া এবং উচ্চ শিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬২ সালে ইংরেজিতে এম.এ. এবং ১৯৭৭ সালে বাংলায় পিএইচ-ডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনিই সর্বপ্রথম বাউল বিষয়ে পিএইচ-ডি লাভ করেন। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যাপনায় যোগ দেন ১৯৬২ সালে। ১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার স্বাধীন বাংলা সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন ও সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে ভারতে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাস অবধি ফোকলোর ও বাউল বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। ১৯৮৫ সালে হার্ভার্ডে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে বিশ্বনন্দিত প্রফেসর এ্যানমেরি শিমেল-এর তত্ত্বাবধানে সুফি-বাউল এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণা। এ সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগে Shamanism in Bangladesh Ges Divinity School-এর Center for the Study of World Religion-এ রবীন্দ্রনাথও বাংলা বিষয়ে বক্তৃতা করেন। মিনদানাও স্টেটের গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তৃতাদানের জন্য তাকে সম্মানজনক সনদপত্র প্রদান করেন। ওই সালেই তিনি জাপানে ওকাইমা ফোকলোর সোসাইটির আমন্ত্রণে সেখানেও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউল ও ফোকলোর বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাউল বিষয়ে নতুন তত্ত্ব প্রদানের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। ড. আনোয়ারুল করীম ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। তিনি লালন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ফোকলোর রিচার্স ইনস্টিটিউট, কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘ আট বছর আমেরিকাস্থ International Council for Traditional music-এর Liaison Officer হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে অবসরে যান এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ট্রেজারার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে কাজ করেছেন। প্রফেসর করীম ইংরেজি ও বাংলা বিষয়ে নানা গবেষণা গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি বর্তমানে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ খুলনা ক্যাম্পাসের ইন-চার্জ এবং ইংরেজি বিভাগের প্রধান।

নজরুলের স্বদেশ ভাবনা

নজরুলের স্বদেশ ভাবনা বা প্রেম কেবলমাত্র বাংলাকে নিয়েই গড়ে ওঠেনি, সমগ্রভারতবর্ষই তখন তাঁর স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে তিনি গোটা ভারতবর্ষের মুক্তির এক দুর্বার আন্দোলনের পথিকৃত হয়ে উঠলেন। গোটা ভারতবর্ষে ইংরেজ অত্যাচার এবং আধিপত্যবাদকে ‘ভগবান’ সাজিয়ে তার বুকে পদচিহ্ন এঁকে দেবার এক অদম্য এবং অসাধারণ দুঃসাহস তাঁর পূর্বে অন্য কোন

নজরুলের স্বদেশ ভাবনা Read More »

নজরুলের বীররসের গান : বাঙালির বীর হয়ে ওঠার মন্ত্র

বাঙালি জাতির আলসেপনা, ভীরুতাপপ, উদ্যোগহীনতা, দাস্যসুখে হাস্যমুখ স্বভাব দেখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর কষ্ট পেয়েছিলেন এবং নিবিড় দুঃখভরা মনে লিখেছেলেন “দুরন্ত আশা” শিরোনামের একটি কবিতা যার কয়েকটি পঙক্তি এমন: “ ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো,/ পোয-মানা এ প্রাণ/ বোতাম-আঁটা জামার নীচে/  শান্তিতে শয়ান।/ দেখা হলেই মিষ্ট অতি, /মুখের ভাব শিষ্ট অতি,/ অলস দেহ ক্লিষ্টগতি, / গৃহের প্রতি

নজরুলের বীররসের গান : বাঙালির বীর হয়ে ওঠার মন্ত্র Read More »

রুদ্ধ নজরুল! নিষিদ্ধ নজরুল!

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন, ‘কারাগারে আমরা অনেকে যাই, কিন্তু সাহিত্যের মধ্যে সেই জেল জীবনের প্রভাব কমই দেখতে পাই, কিন্তু নজরুল যে জেলে গিয়েছিলেন, তার প্রমাণ তাঁর লেখার মধ্যেই অনেক স্থানে পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায় যে তিনি একটি জ্যান্ত মানুষ।’ হ্যাঁ, জীবনের একটা সময় পর্যন্ত নজরুল প্রচন্ড রকমের জ্যান্ত মানুষ ছিলেন। এটা তাঁর লেখা পড়লেই

রুদ্ধ নজরুল! নিষিদ্ধ নজরুল! Read More »

‘বিদ্রোহী’ এবং নজরুল কাব্য সাহিত্যের ভাবধারা

’বিদ্রোহী’ বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কবিতা। এই কবিতার দুকূলপ্লাবি জনপ্রিয়তার তোড়ে কবির নামের সাথেই চিরকালের জন্য লেপ্টে গেছে তাঁর কবিতার নামও। বিশ্ব সাহিত্যে এর কোন তুলনা নেই। আর কোনো কবির নামের সাথে কবিতার নাম জুড়ে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে বাংলা ভাষায় রচিত আরো কিছু বিখ্যাত কবিতার নাম স্মরণ করা যেতে পারে। এর

‘বিদ্রোহী’ এবং নজরুল কাব্য সাহিত্যের ভাবধারা Read More »

অঙ্গার

আত্মাহুতি মাটির চুলা বানিয়ে কুয়াশা জ্বাল দিচ্ছে বউ লাকড়ি ফুরিয়ে গেলে কেটেকুটে প্রস্তুত রাখে নিজেকে… যাত্রা তারা খসে পড়লে হলুদ ক্ষেতে জন্ম হয় হলুদ আকাশের মাটির দরজা খুলে পাখিদের যাত্রা…. অশ্লীল চা পরিবেশন শেষে কাপ ফিরে যাচ্ছে শোকেসে অশ্লীলতার অভিযোগে শুরু হচ্ছে অন্যান্য কাপের মিছিল। অঙ্গার চেরাগে ফুল ফুটছে। চারপাশে দোল খাচ্ছে বিবাহ দু’টি ফুল

অঙ্গার Read More »

রক্ত রক্ত খেলা

কোনো এক ছ্যামড়িকে তুমি চলন্ত রেলের কামরায়— থায় দাঁড়িয়ে কচ্ছো রাজ্যের কত কথা সেই কবেকার হবে— অতীতস্মৃতি; হাতড়ে জীবনের গান ভোরবেলা একটি কাক, উড়ে বসে ঘরের হাতনেতে দেখতে দেখতে পাড়ার ছাওয়াল-পাল ছুটে চলে রেলের দিকে— মা তখনও হারিকেন আর কুপি জ্বালায়ে রাখে ঝড় হবে ভেবে আমিও মৃত মানুষের পাশে রেখে আসি কত চাল আর ধূপকাঠি

রক্ত রক্ত খেলা Read More »

‘বসুমাতা থির’ নিয়ে এক চিলতে অনুভব

বসুমাতা থির, লেখক : গীতা দাস, ধরন : উপন্যাস, প্রচ্ছদ : প্রদ্যোত দাস, প্রকাশ : ২০২৫, প্রকাশক : প্রতিকথা বই পাঠে প্রধানত আমি ভালোলাগার মাত্রায় আপ্লুত হই। আর নিজের সাথে নিজেই এই ভালোলাগাটা উপভোগ করি। কখনো দু’কলম লিখে অনুভূতি প্রকাশ আর হয়ে ওঠে না। কিন্তু গীতা দাসের উপন্যাস ‘বসুমাতা থির’ পাঠে ভিন্নতায় ভাসলাম। উপন্যাসটির নামকরণে

‘বসুমাতা থির’ নিয়ে এক চিলতে অনুভব Read More »

প্রাচ্যশিল্পের স্বরূপ সন্ধান

বিশ্ব-শিল্পকলায় স্পষ্টত শিল্পের দুটি ধারা পরিলক্ষিত হয়। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য। পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিক শিল্পবেত্তারা অনেকে ‘প্রাচ্য’ বা ‘ওরিয়েন্টাল’ টার্মটিকে ব্যাঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করতেন। তাঁরা প্রাচ্যশিল্পকে বর্বর কুৎসিত, অদ্ভুত (grotesque), হাস্যকর, (ludicrous) কৌতুকপ্রদ (comic) বলে আখ্যায়িত করেছেন। রেনেসাঁসের সময় ভাবা হত, যা সুষ্ঠ নয়, যা স্বাভাবিক নয় তা প্রাচ্যদেশীয়। রেনেসাঁস শিল্পাদর্শে কোনো ক্রটি লক্ষ্য করলে শিল্পী ও

প্রাচ্যশিল্পের স্বরূপ সন্ধান Read More »

নারী : শিল্প ও সমাজতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ

নারী ও পুরুষের মিলিত প্রবাহে জীবন বহমান। চিরকাল এই সত্যের মধ্যে বাস করেও মানুষ কেন জানি বুঝে উঠতে পারে না। জীবনের গল্পে নারী ও পুরুষের রয়েছে সমান ভূমিকা। পৃথিবীতে সকলকে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। এই লড়াই ঠিক থাকার, ভালো থাকার, আনন্দে থাকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর সংবেদনশীল মনোভাব জীবনকে ও বেঁচে থাকাকে অর্থবহ করে তুলতে

নারী : শিল্প ও সমাজতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ Read More »

জোড়া

সম্মুখে সমুদ্রের গর্জন—বালির বালিশ বানিয়ে নিলয় আর রুবি সমুদ্রের ঢালু তটে পাশাপাশি শুয়ে আছে। বহুক্ষণ দু’জন দুজনকে কি বলবে বুঝতে পারছে না। আকাশের তারা তাদের বড় বড় চোখের মণিতে জ্বলজ্বল করে উঠল; দু’জনে আরও গম্ভীর হল। শত শত নক্ষত্র টাঙানো মহাকাশ; বিশাল ফেনাময়ী সমুদ্রের ঢেউ যেন তাদের গায়ে চাদর পরাতে পরাতেও এগিয়ে আসছে না। নক্ষত্রগুলো

জোড়া Read More »