Author name: সম্পাদক

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৫

পর্ব-৫ লুম্বিনী হাসপাতালে আমায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তারা ধরেই নিয়েছিল আমি এখন বদ্ধ-উন্মাদ। যে কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারি। আগেই বলেছি, নজরুল নামের কবির উপস্থিতি যদি সত্যি সত্যি আমার শরীরে থাকত, তাহলে সামান্য একটি হাসপাতাল আমায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে পারত! আমি কি এখানে এদের খাতায় ব্রিটিশ রাজের চেয়েও ভয়ংকর অপরাধী? তারাও তো

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৫ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৪

পর্ব-৪ আমি এখন নিজের বর্জ্যের মধ্যে বসে আছি। নিজের মল ও মূত্রের মধ্যে মাখামাখি করছি। শরীর থেকে পরিত্যক্ত পদার্থ দুই হাতে চটকাচ্ছি। এ নিয়ে আমার কোনো ঘৃণা নেই, অনুশোচনা নেই। কেন থাকবে? মানুষের শরীর এখনো বহন করলেও আমি মানুষের বুদ্ধির জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আমি সচ্চিদানন্দ স্তর পার হয়ে বিশ্ব-প্রকৃতির সঙ্গে লীন হয়েছি। আমি

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৪ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৩

পর্ব-৩ আজ কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না আমার সচ্চিনানন্দ অবস্থায় পৌঁছানোর কথা। যারা যোগসাধনা করত, আমি যাদের জন্য এই পথে এসেছিলাম তারাই বিশ্বাস করে নি। নলিনীকান্তকে যেদিন আমার এ অবস্থার কথা বললাম, সেদিন তো সেও আমায় রীতিমতো পাগল ঠাওরালো। আমার এতদিনের বন্ধু ওর আর দীলিপের কারণেও আমার এই যোগের পথে আসা। বরদাপ্রসাদ মজুমদারের সঙ্গে ওরা

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৩ Read More »

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ২

পর্ব-২ এখন আমি শুধুই একটি দেহ। এর আগে যা বলেছি, তা মূলত সেই দেহটাকে যেভাবে দাফন করা হয়েছিল তার কথা। একটি মৃতদেহ কিভাবে এতদিন মাটির উপরে অক্ষত থাকে, গলা পচা দুর্গন্ধ ছাড়া দিব্বি বয়ে বেড়ানো যায়, আমি তার প্রমাণ। হয়তো এটা ঠিক—আমি বলে দেহধারী যে মানুষটা পৃথিবীতে এসেছিল তার হয়তো জীবনাবসান হতে সময় লেগেছিল। কিন্তু

 তুমি শুনিতে চেয়ো না : ২ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১

পর্ব- ১ সানি যখন আমার কবরের উপর কাঁদতে শুরু করল তখন আমি আর কথা না বলে থাকতে পারলাম না। অনেকদিন পরে ছেলেটিকে দেখে এমনিতেই আমার বুকের মধ্যে হু হু করে উঠল। আসলে বাবা হিসাবে আমি কতই-না তাদের উপর অবিচার করেছি। নোয়ার মতো আমিও একজন অক্ষম পিতা—পুত্রদের অনিবার্য মৃত্যু জেনেও তাদের কোনো সাহায্যই করতে পারি নি।

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১ Read More »

 ক্যালকাটা গোয়িং : ৫

পর্ব-৫ চাচা বজলে করিমের লেটোদলে বায়না নিয়ে এসেছি পূর্ব বর্ধমানের মাথরুনে। গ্রাম থেকে এতটা দূর এর আগে কখনো আসা হয় নি। গ্রামটি চুরুলিয়া থেকে প্রায় সত্তর মাইল দূরে মঙ্গলকোট থানায়। এখানে একটি স্কুল মাঠে পৌষমেলায় আমাদের দলের গান গাইতে হবে। কাশিম বাজারের রাজা মণীন্দ্র চন্দ্র বছর দশেক আগে তার পিতা নবীন চন্দ্রের নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা

 ক্যালকাটা গোয়িং : ৫ Read More »

ক্যালকাটা গোয়িং : ৪

পর্ব-৪ একদিকে গায়ে-গতরে বেড়ে উঠছিলাম, শরীরে ছিল অসুরের শক্তি, অন্যদিকে মন-মেজাজের স্থিরতা ছিল না, আমার দুষ্টুমিতে সমবয়সীরা—এমনকি গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিল। মক্তব থেকে প্রাথমিক পাস করে সেখানেই শিক্ষকতার কাজ করছিলাম। এ কাজ আমার জন্য নতুন নয়, সর্দার-পড়ো হিসাবে অভিজ্ঞতা ছিল, এখন কিছু টাকা পয়সাও পাচ্ছি, খুব সামান্য, অনিয়মিত—মাসে পাঁচ টাকা। প্রবীণ শিক্ষক পেতেন দশ

ক্যালকাটা গোয়িং : ৪ Read More »

ক্যালকাটা গোয়িং : ৩

পর্ব-৩ খুব অচিরের লক্ষ করলাম আমার ভেতর ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পিতার মৃত্যুতে কষ্ট থাকলেও হঠাৎ করেই যেন স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে লাগলাম। মনে হলো ছোট হলেও আমি আর ছোট নই, আমার সকল কাজের সিদ্ধান্ত এখন আমি নিজেই নিতে পারি। কেউ আর আমার কাজে খুব একটা বাধা দেয় না। এতে আমার দুরন্ত প্রকৃতি আরো

ক্যালকাটা গোয়িং : ৩ Read More »

ক্যালকাটা গোয়িং : ২

পর্ব-২ উনিশ’শ আট সালে আমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। যদিও তখন আমি নিতান্ত শিশু তবু অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি; যে শিশুকে আর মাত্র দু’এক বছরের মধ্যে নিজের জীবনের সব দায়ভার নিজেকেই বহন করতে হবে—তার জন্য বয়সের বেড়াজাল বিবেচ্য নয়। যে মৃগশিশু জন্মাবার মুহুর্তে অরণ্যে অধিকৃত সিংহ-ব্যাঘ্রের ভয়ে প্রাণ নিয়ে অতিষ্ঠ থাকে, তার জীবনে দৌড়ানো

ক্যালকাটা গোয়িং : ২ Read More »

ক্যালকাটা গোয়িং : ১

পর্ব-১ আমার জন্মের রাতে খুব ঝড় হয়েছিল, জ্যৈষ্ঠ মাসে ঠিক এমন ঝড় হয় না, ঈশান কোণ থেকে দিকচক্রবাল অন্ধকার করে উঠে এসেছিল মেঘ, কালবোশেখি ঝড়ের সঙ্গে ছিল তার মিল, ঘরের চালা উড়ে গিয়েছিল, জল-বাতাসের তেরচা ঝাপটায় মাটির দেওয়ালে ফাটল ধরেছিল—হয়তো সে-কারণে আমার জীবনীকারদের অনেকে বিশ্বাস করতে চায় নি ‘আমার জন্ম এগারই জ্যৈষ্ঠ।’ জ্যোতিষী বি. আর.

ক্যালকাটা গোয়িং : ১ Read More »