ইতিহাসের অমোঘ কার্যকারণ সূত্রে ধর্মভিত্তিক পূর্ব পাকিস্তান ভাষাভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। ভাষা সাহিত্যকে বহন করে। দেশ গঠনে, জনচেতনা উদ্দীপনে সাহিত্যিকের বড় দায় থাকে তাই। ধর্মভিত্তিতে যখন পূর্ব পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল তখনও যেমন রাজনীতিকদের পাশাপাশি কবি সাহিত্যিকদের ভূমিকা ছিল, ভাষা ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনেও সাহিত্যিক, কবিদের সার্থক ভূমিকা ছিল। ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের মধ্যে দিয়ে পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের নিজস্ব কাব্য সাহিত্যের ভিত্তিভূমি রচিত হয়েছিল। শক্তিশালী সংখ্যালঘুর শোষণ ও শাসন অর্থনৈতিক শোষণের সঙ্গে পরভাষার আত্মিক পীড়ন বাংলাভাষী মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে। সেই ক্ষোভ ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ কে সাক্ষী রেখে রাজনৈতিক স্বাধীনতা যুদ্ধে রূপান্তরিত হলো । যুদ্ধ শেষে দেশ ও ভাষা কৃঙ্খলমুক্ত হলো। ভাষাই ছিল সেই যুদ্ধের অগ্নিমন্ত্র। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৫ সময়ের টাটকা সাহিত্যে ছিল জন-জাগরণের সাক্ষ্যবাহী ২১-এর অমোঘ প্রভাব। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭১ (যার মধ্যে একাধিক ছায়াপাত ঘটেছে) এর সাহিত্যে দেশাত্মবোধক চেতনার ধারা লক্ষ্য করা গেছে। তারপর একদশক কাল পর্যন্ত দেশপ্রেম, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধজয়ের বেদনা আনন্দের আলেখ্য। অবশেষে, ১৯৮০র দশক থেকে আবার পিছনে ফেরা, যদিও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে। কারণ, তখন তো ভাষা নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই, বরং বৌদ্ধিক তৃপ্তির খোরাক বিশ্বজোড়া সাহিত্যে বর্তমান। ধর্মের চেনারূপ বদলে গেল। বাস্তব সমাজ জীবন পুরান ও মিথকে সঙ্গী করে স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে এগিয়ে গেল। টি. এস. এলিয়ট-এর ভাষায়, ‘We are using poetry for particular social purpose. সেই সামাজিক উদ্দেশ্য মানবমুখী আন্দোলন, জীবনের যন্ত্রণাকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
তারপরে এল সাম্প্রতিক সাহিত্য। এই সময়ের বাংলা কবিতার উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে আছে ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ, প্রাচীন পুরাণ ও চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরা, তার পুনর্বিচার করা, বিচিত্র মিলযুক্ত ছন্দের পরীক্ষা নিরীক্ষা অথবা ছন্দহীন, যতিহীন গদ্য কবিতার ন্যাস, তৎসম শব্দের সঙ্গে আঞ্চলিক, ইংরেজি এবং বিষয়গত নির্দিষ্ট কিন্তু সাধারণ্যে অবোধ্য শব্দের পাঞ্চ ((PUNCH) – একটা পাঁচ তরকারির ঘ্যাঁট।
এই আলোচনার আলোকে বাংলাদেশের কবি প্রাবন্ধিক মজিদ মাহমুদ সম্পর্কে কিছু কথা বলব। মজিদের গ্রন্থ তালিকা থেকে দেখা যায় গত শতকের আশির দশকের শেষদিকে (১৯৮৯) তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘মাহফুজামঙ্গল’ প্রকাশ পায়। কবির বয়স তখন বছর ২৩। এর আগে দু’একখানি গল্প, কিশোরদের জন্য রচনা লিখলেও মাহফুজামঙ্গল-ই তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের প্রথম ভাগ।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগে বাংলাদেশে (অবিভক্ত) তুর্কী আক্রমণের পটভূমিতে আর্য ও প্রাগার্য বিরুদ্ধ সংস্কৃতির ঐতিহাসিক মিলনের ফলে যে সাহিত্য ধারাটির জন্ম হয় তা হলো মঙ্গলকাব্যের ধারা। মঙ্গলকাব্য বাংলার গণমানসের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ-বিষাদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি। মঙ্গলকাব্যের লৌকিক দেবতারা মানুষের যাবতীয় ক্ষুদ্রতা, কপটতার সঙ্গে মিশে গিয়ে দেবত্বের মহিমা হারিয়ে মনুষ্যত্বের আত্মীয়তা অর্জন করেছে। যে যুগে যখনই কোনো প্রকৃতির রুদ্ররোষ মানুষকে সন্ত্রস্ত করেছে তখনই মানুষ দেবতার শক্তিকে প্রশমিত করতে তাদের বন্দনা করেছে। মাহফুজামঙ্গল গ্রন্থটির/কাব্যটির পরিচয়পত্রে বলা হয়েছে- মানুষ প্রকৃতির উপর বিজ্ঞানের জয়ধ্বজা ওড়ালেও, তার সংগ্রামের শেষ নেই। নতুন শঙ্কা ও সম্ভাবনা মানুষকে আলোড়িত ও তাড়িত করেছে। যুগে যুগে পরিবর্তন হয়েছে বন্দনার রূপ, বিষয়ের প্রেক্ষিত এবং কাব্যের ভাষা। মাহফুজামঙ্গল নারীশক্তি বন্দনার নতুন রূপ। মঙ্গলকাব্য ধারার এ এক সম্প্রসারিত প্রণালী বা খননক্রিয়া।
তবুও বিষয়াংশ ও ভাব পরিমন্ডল রচনায় মাহফুজামঙ্গলে মঙ্গলকাব্য হিসাবে তেমন পারদর্শিতা দেখা যায় না। হয়ত সেটা সম্ভবও ছিল না, কারণ কবির বয়স তখন মাত্র ২৩ এবং একথাও মনে রাখতে হবে যে, তখন বাংলাদেশের সাহিত্যের ধারা নিঃসন্দিগ্ধ স্বাতন্ত্রের পরিচয়বাহী। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, আজিজুল হক, আবুল হাসান, রুদ্র মহম্মদেরা তখনও তাদের শক্তিশালী লেখনী চালিয়ে যাচ্ছেন। সময় ও সমাজের দ্বান্দ্বিক বিকাশ, কবির গোপন বাসনা এবং মানবতাবোধ তাঁদের কবিতায় শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় রূপায়িত হচ্ছে। তবে প্রকরণ কৌশলে মজিদ কিছুটা স্বাতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি প্রেমের কথা বলতে গিয়ে পুরাণের আশ্রয় নিয়েছেন, পুরাণের অনুষঙ্গে নির্মাণ করেছেন প্রেমের শাশ্বত ব্যঞ্জনা। মঙ্গলকাব্যের দেবীরা তাঁর চেতনায় উপস্থিত হয়েছে চিরায়ত প্রেমের স্বপ্নময় অধরা-মাধুরী মূর্তিতে। নারীর প্রেমহীনতার যন্ত্রণামুগ্ধ প্রান্তর পার হয়ে তিনি তাঁর কল্যাণকর ও প্রেমময় স্পর্শের আর্তিতে উদ্বেগে আকুল হয়েছেন। প্রেমের কথা, বিরহের কথা বলতে গিয়ে তিনি অনায়াসে চলে গেছেন পুরাণ কথায় : ‘তোমার বাহন জানি সদাশয় পবন /যক্ষের মনোবেদনা বিরহীসময় আর সব সমাচার নিয়ে/ গিয়েছিলে শীপ্রা নদীকূলে উজ্জয়িনীপুরে/ মালবিকার সমস্ত সংবাদ সমবেদনায় করেছ বহন/ অথচ আমার অভিজ্ঞান অঙ্গুরীয় মৎস্য করেছে আহার …’ (ফেরে না মানুষ)। অথবা ‘গাঙুড়ের জলে ভেসে চলে বেহুলার ভাসান/ মলুয়ার মদিনার দুঃখের কাসুন্দি ঘেঁটে মনসুর বয়াতি/ আমাদের বিরহের ধৈরে্যর কাহিনি শোনায়’ (শুভদিন)।
প্রেম আর পুরাণের এই যুগলবন্দি জামরুল হাসানের মতো মজিদেরও কবিসত্তায় ওতপ্রোত জড়িত। জামরুল হাসানের ‘প্রেমদা ও সুভদ্রা’, ‘বেহুলার পালা’, ‘ফুল্লরার গান’ ইত্যাদি কবিতা মজিদের পরম্পরা। প্রেমের জন্য আকুল কামনা, কখনো অভিমান, কখনও বা প্রেমের পবিত্রতা রক্ষায় বেদনাকে আলিঙ্গন এইসব কথা নিয়েই গড়ে উঠেছে মজিদের মাহফুজামঙ্গল।
মাহফুজা এক নারী যে ঈশ্বরকে ডাকলেও সামনে এসে দাঁড়ায়, (কুরশিনামা।। মাহফুজামঙ্গল।। পূর্বখণ্ড।।) কবি যার স্মরণে নব্য আয়াত লিখতে পারেন, যার নাম দিবারাত্র জপ করেন। মাহফুজা সান্নিধ্যে এলে ঈশ্বর প্রবলভাবে জেগে ওঠেন (এবাদত)। মাহফুজা প্রকৃতিদেবী, সবুজ-স্তনী শ্যামলা শস্য ক্ষেত্ৰ যার আরণ্যক হিংগ্রতা আছে (দেবী), যে আবার হাজার পার্থিব কামনার অপরাধেও মাটির স্নেহে মানুষকে ঘিরে রাখে। মাহফুজা সেই নারী যার জন্য ট্রয়, গ্রিস, রোম, মিশরের ধ্বংস ঘনিয়ে এসেছিল, তবুও যে আত্ম অহংকারে ধ্বংসের ওপারে নিষ্পলক চেয়ে থাকে ভবিষ্যতের দিকে (তোমার অহংকার)।
আবার কল্পনার বিলাস, দূর ভুবনের যাদু সহসা চারিপাশের বাস্তব পৃথিবীতে নেমে আসে। কবির মনে বাস্তবের অভিঘাত প্রশ্ন তোলে মাহফুজা কি ন্যান্সি বা রাইসা যারা মার্কিন বা রুশ শক্তির, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের অঙ্কশায়িনী প্রেরণাদাত্রী? পরক্ষণেই মাহফুজাকে বড্ড কাছের, পাড়ার মেয়ে মনে হয়, ‘তুই তো ছিলি কলেজ পাড়ার মুখরা মেয়ে/ তোর বাবা নলের মুখে সবাই জানত আমলা পাড়ায় বিয়ে হবে/ তবু কেন ওই পুচকে ছেলের পাছ লেগে তুই/ যা ছিল সব নিয়ে গেলি। -বিত্তবেসাতহীন ছেলেটার।’ (যা ছিল সব নিয়ে গেলি)।
প্রেমিকার প্রতি গভীর ভালবাসা আর বিশ্বাসই কবির পথচলার অন্তহীন পাথেয়। তাই তিনি অবলীলায় বলতে পারেন – ‘তুমি এসো মাহফুজা, এই শীতের মৌসুমে তুলে নাও/ আমার বিবর্ণ হাত/ এই হিমানীর রাতে আমাকে দাও/ তোমার নরম পালকের ওম।’(দাক্ষিণ্যে)।অন্যদিকে, প্রেমের প্রত্যাখ্যানে কবির চিত্তে আসে অভিমান ও ক্ষোভের ছায়া। কিন্তু পরক্ষণেই সংবেদনশীলতা জেগে ওঠে। ক্ষোভের পরিবর্তে আত্মনিবেদন ধ্বনিত হয় – ‘মাহফুজা আমার বিপরীতে ফিরায়ো না মুখ/ যেন কোন দিন প্রবঞ্চিত না হই তোমার রহম/ সারাক্ষণ আমাকে ঘিরে থাকে যেন তোমার ক্ষমা/ তুমি বিমুখ হলে আমাকে নিক সর্বহারী যম।’ (মঙ্গলকাব্য, তিন)। কবি চিত্তের এই বেদনা বিলাস কখনও জমাট বাঁধে অবারিত ভালবাসায়, কখনও সামুহিক পচন থেকে রক্ষা করার আত্যন্তিক আকাঙ্ক্ষা ‘আমার বড় হিংসে হয় মাহফুজা/ তোমার ওই বিশাল দেহে হেঁটে বেড়ায় পেঙ্গুইন/ দংশিত ক্ষতে পচে ওঠে আমাদের বহু ব্যবহৃত শরীর / তোমার স্পর্শে অমর হয় মানুষের মাটি/ তুমি যদি বলতে পার মাহফুজা/ আমরাও তোমাদের কেউ/ তোমার সত্তার কসম/ আর তবে ধরব না বেশ্যার হাত/ অন্যথায় তোমার জমাটবদ্ধ নুন গলে/ আমাকে ডুবায় যেন অতলান্ত সাগর’ (এন্টার্কটিকা)।
অর্থাৎ মজিদের কবিতায় প্রেমের বহুমাত্রিক চিত্র পৌনঃপুনিকতায় প্রকাশিত হতে দেখি। তবে সব কবিতার অন্ত:গ্রোতে আছে কবিচিত্তের গোপন প্রেমের আকুলতা মিলনের শুভদিন কোনদিন আসবে না আমাদের/ অপেক্ষায় কেটে যাবে আহ্নিক গতি’। প্রেম ও প্রেমের উদাসীনতায় কবির চিত্তে দোলাচল, বিপন্নতা। হতাশা-বেদনার ডুবজলে দাঁড়িয়েও তিনি জীবনের মোহনা দেখতে পান, আর সেই দেখার দৃষ্টি এনে দেয় পুরাণের অনুষঙ্গ। ‘ধনীনন্দন জনক মনসামঙ্গলের চাঁদ সওদাগর/ সতেরবার পদ্মায় ভেসেছেন আজ তিনি বিত্তহীন লোক/ আর আমি আজ নামগোত্রহীন অখ্যাত অনিকেত যুবক/ .. ঘুমের মধ্যেই মাহফুজা তুলে নিল হাত; বলল, এখানে/ এই বুকে আর নাভির নিচে বেদনায় লেখা স্বপ্নের মানে।’
তাঁর কবিতার মধ্যে মজিদ প্রেমের ইতিবাচক প্রতিফলনের দিকে অধিক মনোনিবেশ করেছেন। আর সেই প্রেমের মানুষটি মাহফুজা যে পাড়ার প্রতিবেশিনী থেকে, লৌকিক দেবী হয়ে শাশ্বত নারীর অভিধায় বিস্তৃত। মানুষী প্রেমের আধার থেকে মঙ্গলকাব্যের দেবী পূজা পর্যন্ত প্রতিফলিত। এর মধ্যে থেকেই বেরিয়ে এসেছে জীবন ঘনিষ্ঠ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্তিত্বের বিড়ম্বনা ও তার গভীরভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি অস্তিত্ব।
মাহফুজামঙ্গলের পূর্বখণ্ড শেষ হচ্ছে প্রেমের ইতিবাচক প্রতিফলনে। ‘আমার হৃদয় কখন যে উচ্চারণ করে না তোমার নাম/ আমার জানা নেই সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত সময়।’ প্রেমিকাকে মঙ্গলদাত্রী হিসাবে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে কবি নবীন যৌবনোচিত উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন পূর্বখণ্ডে। উত্তরখণ্ডে তারই পরিণতি। ‘মাহফুজা তোমাকে যখন দেখলাম/ মরুভূমির তৃষ্ণা জেগে উঠল/ আমি বুঝতে পারলাম তুমি ছিলে/ আমার নিজস্ব অংশ। এই অনন্ত বিশ্বাস নিয়ে কবি ফেরেশতার দেশে চলে যেতে চান। মাহফুজার কাছে প্রতিজ্ঞা করেন এবার তিনি পার্থিব সবকিছু ত্যাগ করে তারই শরণ নেবেন। কিন্তু তারপরে আবার তিনি মাহফুজাকে যেভাবে দেখেছেন, এঁকেছেন তার মধ্যে না আছে কোনো পারম্পর্য, না আছে কোনো সু’ চিন্তার অসীম ব্যঞ্জনা। খাপছাড়া সে সব চিত্র, সঙ্গতিহীন চিন্তা। মঙ্গলকাব্যের যে ভাবগত সংহতি থাকে, যে লক্ষ্য থাকে এখানে তেমন কিছু নেই। বলা যায় মাহফুজাকে কেন্দ্র করে নানা বিক্ষিপ্ত-চিন্তার সংকলন এই কবিতাগুচ্ছ, সামগ্রিকভাবে যেখানে শরণ নেওয়া ছাড়া, আত্মসমর্পণ ছাড়া। আর একমাত্র যৌন কামনা ছাড়া আর কোনো ইতিবাচক মানসিকতার দৃঢ় প্রকাশ নেই। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ নিতান্তই ছুঁয়ে যাওয়া।
মজিদ বা বাংলাদেশের বেশ কিছু কবি সাহিত্যিকের লেখা পড়ে মনে হয় তাঁরা সম্ভবত মনে করেন বাংলা কবিতার অর্থ বুঝতে পাঠককে আরবি-ফারসি এবং ইংরেজি শব্দের পাঠ নিতেই হবে। নইলে তাঁদের লেখায় তৎসম এবং দেশি শব্দের পাশে এত বিদেশি শব্দ কেন? মজিদ তাঁর কবিতায় এ ধরনের যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন তার মধ্যে আছে জায়নামাজ, আয়াত, আজাব, এবাদত, তাসদিদজজম, তেলওয়াত, হাশরের দিন, মরহুম, মোস্ট ওয়ানটেড পার্সন, অ্যাসাইলাম, অ্যাওয়ার্ড, এক্সপেনসিভ ইত্যাদি বিদেশি শব্দ। এই সব শব্দের ব্যবহারে শুধু শ্রবনেন্দ্রিয় পীড়িত হয় তাই না, কাব্যরসসিক্ত মনের পর্দায় আঘাত লাগে। বাংলা ভাষার ঐশ্বহ্যের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ পায়। মজিদ মাহমুদ তাঁর আলোচ্য কবিতা গ্রন্থের শেষভাগে যুদ্ধ নিয়ে ‘যুদ্ধমঙ্গল কাব্য’ লিখেছেন। সংখ্যায় তারা (ঐ বিষয়ে কবিতা) পাঁচ। আকারে নিরঙ্কুশ গদ্য। ‘এবার আমি সম্মুখযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করলাম মাহফুজা। এবার আমি গ্রহণ করলাম গেরিলাযুদ্ধের কৌশল। আমাদের পরস্পরকে ধরাশায়ী করা ছাড়া আর কোনো যুদ্ধ থাকবে না পৃথিবীতে।’ সহজ সুন্দরভাবে লেখা নির্ভেজাল গদ্য – যা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এগুলিতে যতিচিহ্নও আছে যা অন্যসব কবিতায় নেই (আজকালকার রীতিতে থাকতে নেই)।
পদ্য থেকে গদ্যে আসার পথে এই যুদ্ধ বিষয়ক গদ্য (পদ্য?)গুলি অনেকটা ‘নো ম্যান’স ল্যান্ডের’ স্বাধীনতা ও প্রভূত্ব ভোগ করছে। এর পরে যখন তিনি প্রবন্ধ রচনায় হাত দিয়েছেন তখন তা মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে। বলা যায়, প্রবন্ধ লেখায় তাঁর উৎসাহ কবিতা লেখার চাইতে কম নয়। তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ গ্রন্থের সংখ্যা সমান সমান। এখানে আমরা মজিদ-এর ‘সাহিত্যচিন্তা ও বিকল্প ভাবনা’ নামের প্রবন্ধ গ্রন্থটি নিয়ে দু’চার কথা বলব। গ্রন্থের প্রকাশ ২০১২। অর্থাৎ লেখক তখন মধ্য চল্লিশের প্রবীণ শিক্ষক। চিন্তায় লেখায় যুক্তিতে প্রকর্ষে পরিণত বুদ্ধির ও অধ্যয়নের ছাপ পড়েছে। প্রবন্ধ সাহিত্য, সংস্কৃতি, চেতনার সমস্যা, সম্ভাবনা ও সংকটের কথা বলে। বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্যে ও যুগ ও কালের সাহিত্য চিন্তা ও সাহিত্য সম্ভাবনার কথাই প্রকাশিত হয়েছে স্বাধীনতা উত্তরকালে। আমরা জানি গদ্যের উৎকর্ষতা প্রবন্ধে উৎকর্ষ আনে। প্রবন্ধের বক্তব্য ভাষাশৈলীর মাধ্যমে প্রোজ্জ্বল হলেই প্রবন্ধ সাহিত্য সার্থকতা লাভ করে। মজিদের প্রবন্ধ তাঁর বক্তব্য প্রকাশে সাবলীল, যদিও মৌলিকতার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। যতটা পঠনক্রিয়া আছে, ততটা মনন ক্রিয়া নেই। তবুও সাবলীলতার একটা মূল্য আছে। শামসুজ্জামান, হুমায়ুন আজাদ প্রমুখের হাত ধরে মজিদ বা তাঁর সময়কার প্রবন্ধকারদের আবির্ভাব। কিন্তু তাঁরা পূর্বসুরীদের থেকে অনেকাংশে সরে এসেছেন; কারণ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিকল্প চিন্তা এসেছে। এসেছে নতুন ভাষাশৈলী যা সেই চিন্তাকে রূপদান করেছে।
মজিদ প্রবন্ধগুলির মধ্যে বিকল্প ভাবনার কথা বলেছেন। অর্থাৎ কালের প্রয়োজনে নতুন চিন্তার সংশ্লেষ ঘটিয়েছেন। গ্রন্থের ডিরোজিও, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, আবু সয়ীদ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শহীদুল জহীর, বিনয় মজুমদার প্রমুখকে নিয়ে লিখেছেন। লেখক তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী, বোধ অনুযায়ী তাঁদের কাজের বিশ্লেষণ করেছেন। এ নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ এখানে নেই। প্রকৃতপক্ষে বলারও কিছু নেই। কারণ, বিশ্লেষণ, মন্তব্য একান্তভাবে তাঁরই। তাছাড়া কিছু লেখা আছে যা বৃহত্তর অর্থে শিল্প সাহিত্য সম্পর্কিত হলেও আলোচনায় সংহতি আনার পক্ষে অপরিহার্য ছিল না। সরাসরি শিল্প সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখাগুলির মধ্যে আছে, ‘কবিতার দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে, ‘উত্তর উপনিবেশ সাহিত্য চিন্তা’ এবং ‘শিল্পের দর্শন সত্যানুভূতি’। ‘শিল্পের দর্শন সত্যানুভূতি’ প্রবন্ধে মজিদ স্বাভাবিকভাবেই তত্ত্ব কথা আলোচনা করেছেন। প্লেটো- অ্যারিস্টটল থেকে রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ পর্যন্ত গিয়েছেন। বহুচর্চিত সেসব কথার পাশে মজিদ যখন লেখেন, ‘সত্য বহুমুখী সম্বন্ধের দ্বারা সম্পর্কিত। সত্য একটি বিশ্বাস, সত্য একটি উপলব্ধি, দর্শনও তাই। আমাদের শিল্প সাহিত্যের দর্শন হোক সত্যানুভূতি, আমাদের সত্যানুভূতি হোক পরম সুন্দর, পরম সুন্দর হোক নির্লোভ, বৈশ্বিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধানের ভিত্তিতে রচিত,’ তখন কথাগুলিকে বস্তুবাদী সাহিত্যিকেরা ভ্রান্ত বা ভাববাদী দৃষ্টিভঙ্গী হিসাবে ত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু কোনো ব্যক্তির বিশ্বাসকে, তার উপলব্ধিকে অস্বীকার করতে পারেন না। এ কথাও বলা যায়, ‘বিকল্প ভাবনা’বিকল্পই, অবিমিশ্র সার্বভৌম নয়। এ ধরনের বিচার বিশ্লেষণ যুগে যুগে চলতেই থাকবে। তবে মজিদ এখানে কবিতার চাইতে সংহত চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন।
‘কবিতার দিন ফুরিয়েছে’ নিবন্ধে মজিদ লিখেছেন, ‘লেখার সবটাই প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক জগতের মধ্য থেকে আসে না। সবটা তিনি (কবি) ব্যাখ্যাও করতে পারেন না। তবে উপলব্ধি এমন একটা রূপ লাভ করে যে সত্যকে উপেক্ষা করা যায় না। একইভাবে এই ধরনের বোধের বারংবার প্রকাশ তাকে কবি করে তোলে। তখন সে একটি কণ্ঠস্বর হতে চায়। নিজ ভাষার জনগোষ্ঠীকে তার বোধের কথা জানাতে চায়।’ অর্থাৎ কবিতাসৃষ্টি কবির নিজস্ব ব্যাপার হলেও, সেই কবিতার অস্তিত্ব ও কবিখ্যাতি পাঠকের উপর নির্ভরশীল। এমন কি কবি একা তাঁর কবিতার পাঠক হলেও বেশি দিন সেই কবিতাপাঠে তাঁর উৎসাহ থাকবে না। মজিদ ঠিকই প্রশ্ন করেছেন, ‘মানুষের প্রথম সাহিত্যসৃষ্টি কবিতা। কিন্তু কবিতা কেন? অন্য মাধ্যম কি ছিল না?’ অন্য মাধ্যম ছিল কিনা তার উত্তর আমাদের ঠিক জানা নেই, তবে থাকলেও কবিতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প মানুষের সংবেদনের প্রাথমিক প্রবৃত্তিকে নাড়া দেয় নি এ ধারণা সত্য বলেই মনে হয়। সেদিন মানুষের প্রবৃত্তিতে ছিল, তার জ্ঞানের, তার উপলব্ধির, তার স্মৃতির ডালিকে পরবর্তী মানুষের কাছে তুলে ধরা, তাদের জন্য সঞ্চিত রাখা। তাই ভাষার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কিন্তু বহুকাল পর মানুষ তখন আর সেই প্রবৃত্তিকে লালন করে না, সেই প্রয়োজন মানে না। তাই কাব্য কবিতা ব্যাষ্টির সৃষ্টি তখন যা চর্যাপদের যুগে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের যুগে, মঙ্গলকাব্যের যুগে ছিল না। তখন ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়, ছিল সামাজিক বা ধর্মীয় প্রয়োজন। এখন সেসব আকাঙ্ক্ষা, প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ফলে কাব্য-মহাকাব্যের যুগও ফুরিয়েছে, ফুরিয়েছে গীতি কবিতার যুগ, বদলিয়েছে গদ্য কবিতার সাবেক রূপ।
এ প্রসঙ্গে লিট্ল ম্যাগাজিনের কথা আসে। লিট্ল ম্যাগাজিনে পদ্য-কবিতার বিজয় কেতন ওড়ে। তার কারণ হিসাবে অর্থাভাব, স্থানাভাব এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব যেমন প্রধান, তেমনি আবেগ, বৌদ্ধিক কলাকৌশলে দক্ষতা সত্ত্বেও গভীর অধ্যয়ন কাব্য-সাহিত্যের শেকড়ের অনুসন্ধান করার ক্ষমতা ও ধৈরে্যর অভাবও আছে। আছে দীর্ঘায়ত কোনো রচনায় সংহতি রাখার ও বিশ্লেষণের অদক্ষতা। অসংখ্য কবিতা মাত্র কয়েকটি পংক্তিতে এমন কিছু বলতে চাইছে যা বলা যায় না বা বলার কিছু নেই। অথচ, কথা সাজিয়ে ইতি টানা হচ্ছে। ফলে, সংখ্যার দিক থেকে পদ্যের বিজয়রথ চললেও পাঠকের মনে তার স্থায়িত্ব ঝাপসা ও তাৎক্ষণিক। আজকের কবিরা তাঁদের কবিতা মানুষ পড়ুক, বুঝুক এ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। কারণ তার ভাষা ও প্রকরণে বাঁধনশূন্যতা, তার চিন্তায় দুর্বোধ্যতা, তার আপাত, বৌদ্ধিক প্রকাশভঙ্গী, তার শ্রেণীগত সংকীর্ণতার বেষ্টনী। এখানে ‘শ্রেণী’ কথাটি অর্থনৈতিক বা সামাজিক সূত্রে গ্রথিত নয়, এটা উপলব্ধিগত বহুমুখীনতার অভাব। মজিদ বলেছেন, ‘তবু কবিতা এখনও জয়ী। মানুষ যে এখনও রোবোট হয়নি তার প্রমাণ মানুষ এখনও কবিতা লিখছে। অবশ্য সেই কবিতার ছন্দ, শব্দ ও বাক্যের বিন্যাস কম্পিউটারের গণনযন্ত্র দিয়ে মাপা নয়। সেই কবিতা সুযোগ পেলেই এলোমেলো করে দেবে নিশ্চিত সব ভাল থাকা। … প্রথাগত ছন্দ ও অলংকার গদ্য ও মিশ্র-কবিতার বাইরের লোকজনের কবিতা নিয়ে কথা বলার দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে।’ হ্যাঁ, ফুরিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে প্রাণের স্পন্দনও হারাচ্ছে। ছন্দহীনতা, যতিহীনতা, দুর্বোধ্যতা, শব্দ সৃষ্টির নামে বেপরোয়া ব্যাকরণের কৃঙ্খলা ভেঙে কৃঙ্খল মোচনের নামে ঔদ্ধত্য ফানুসের মতো জ্বলে উঠে নিভে যাবে, ছাই হয়ে যাবে। মানুষ কবিতা লিখছে সত্য, কিন্তু সবাই কবি নয়। যদিও কবিতা থাকবেই, তা সে যে আকার বা প্রকারেই হোক না। কারণ, কবিতা মূলত ব্রহ্মান্ডের, সৃষ্টিজগতের, মানুষের মনোলোকের সম্পদ। কবিতা চির বিজয়িনী।
স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশের নবীন লেখকদের সাহিত্য চিন্তায় উত্তর আধুনিক এবং উত্তর উপনিবেশিক তত্ত্বের অনুধাবন করে সাহিত্যের বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছে। এই ধারায় বেগম আকতার কামাল, মাসুদুজ্জামান প্রমুখ লেখকেরা যুক্ত। মজিদ তাঁর ‘ঢাকায় উত্তর-উপনিবেশিক সাহিত্য চিন্তা’ প্রবন্ধে যে উত্তর-উপনিবেশিকতা তত্ত্বের কথা বলেছেন সেখানে কোনো ‘ইজম’ নেই। কোনো অ্যাডভেঞ্চার বা ঝুঁকি নেই। ধীর তরঙ্গের মধ্যে মাঝে মাঝে দু-একটি অপেক্ষাকৃত বেশি শক্তির গ্রোতধারা ছাড়া আর কিছু নেই। তার প্রভাবে যতটা জোরে চলা যায়। মজিদ লিখেছেন, ‘বাঙালি জাড্যধর্মে বিশ্বাসী। সাগর অতিক্রম করাও তার কাছে সনাতন শাস্ত্রবিরোধী।’জীবন যাপনের যা কিছু প্রয়োজন তা সহজলভ্য থাকায় কোনো অ্যাডভেঞ্চার করতে হয়নি, কোনো ঝুঁকি নিতে হয়নি, আরাম কেদারায় দিন কেটেছে। ইংরেজরা আসার আগে পর্যন্ত জীবনে ও সাহিত্যে এই আলস্য ও মন্থরতা দেখা গিয়েছে। তারা বহির্ভারতের সঙ্গে মিলনের সহজপন্থা গ্রহণ করেছে। মনেই হয়নি উপনিবেশের পরাধীনতায় তারা ধনী বাড়ির বকলেশ বাঁধা সারমেয়ের জীবন কাটাচ্ছে।
ইংরেজ জমানা দেখে, ইংরেজের ইতিহাস পড়ে প্রথম অনুভবে এল ঔপনিবেশিক পরাধীনতার জ্বালা। ইংরেজ ক্রমশ ৮৫ ভাগ বিশ্বের মালিক হয়ে উঠল। ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে তারা মিশে যাবার মানসিকতা নিয়ে আসেনি। তাই তাদের বিরুদ্ধেই ঔপনিবেশিকদের লড়তে হয়েছে। মজিদ ইতিহাস অনুসরণ করে এই লড়াইয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন ভারতীয় মানসে হীনম্মন্যতা বোধের জন্মের কথা। এই বোধ জীবন ও সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে বিধৃত হয়েছে। উপনিবেশিকতা আফ্রিকা থেকে ভারত পর্যন্ত সমগ্র তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে এক গোত্রে আবদ্ধ করেছে। ইংরেজি সাহিত্যেও এই উত্তর-উপনিবেশিকতার কথা আছে। আমেরিকা কিন্তু একদা উপনিবেশ থাকলেও পাশ্চাত্যের সকল দেশের উপর তার পুঁজিবাদী প্রভাব উত্তর উপনিবেশিকতার ধারণাতেও পরিবর্তন এনেছে। তার ফলে, উপনিবেশের প্রতিষ্ঠা নয়, মুক্ত অর্থনীতির প্রতিষ্ঠাই এখন সমাজ ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে নতুন রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। এই রাজনীতির চক্রে আমাদের অর্থনীতি সংস্কৃতি বিবর্তিত হচ্ছে। মজিদ কথাগুলো প্রাঞ্জল ভাবেই বলেছেন।
বাংলাদেশের সাহিত্য চিন্তার রূপান্তর, নানা প্রবণতার উপলব্ধি ও মানবিক সম্ভাবনার বিকাশ মজিদের প্রবন্ধের সূত্রে আমরা অনুধাবন করতে পারি। মতানৈক্য থাকতে পারে, কিন্তু মত বা মন্তব্য উপেক্ষা করার মতো নয়। সেদিক থেকে মজিদ মাহমুদ তাঁর গদ্য রচনায় মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।
লেখক : পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট গদ্যকার ও প্রাবন্ধিক



