সমুদ্রতটে বসে কথা হয়েছিল, কিংবা নগর থেকে সমুদ্র নগরে যেতে যেতে ‘উদ্ভট সব’‘অভিমানী’ পথে সরস সংলাপে দুজনে মিশে গেলাম সাহিত্যের বাঁকে বাঁকে। এ পথ হারা পথিক নয়, পথে পথে অনাদরে, বেড়ে ওঠা বাংলা সাহিত্যের পরম উৎকর্ষের ‘নঞ’বাদিতায় পল্লীর প্রান্তে নগ্ন পথে পথ চলা নারীর। সৌন্দরে্যর অবলোকন পড়েছিল ঘাসের উপর, শিশির স্নাত শস্য ভূমি, ফসলে ফসলে ভরেছে প্রান্তর, সেই প্রান্তরে আটপৌরে নারী তার আঁচল পেতেছে। শিশিরে আলতা রঙের উপর মাটির প্রলেপ, উদ্ভিন্না যৌবনা মাহফুজা সারা বাংলায় যেন ঘুরে বেড়ায়। চন্ডীমঙ্গলের ‘শ্রী কবিকঙ্কন’ যেন দিবস দুপুরে প্রকৃতির সভাস্থানে নিয়ে গেলেন। নারদের বাক্য যদি মানিল ভবানী/ বন্দিআ ইন্দ্রের সভা গেল মহামুনি। অম্বিকা চরণে মজুক নিজ চিত! শ্রী কবিকঙ্কন গান মধুর সঙ্গীত’। প্রকৃতির উদার সংলগ্নতায় কৃত্যের বাংলায় আখ্যানের গীতে যে নির্মল সত্য, তা যে, জ্ঞানই হল সম্যকদৃষ্টি। এই দৃষ্টির সাথে কবি মজিদ মাহমুদ কোথায় যেন ‘এককরূপে’ মিলনবন্ধন তৈরী করে নেন। ভারতের বৌদ্ধ দর্শনে অষ্টাঙ্গিক মার্গের কথা বলা আছে, যা হলো (1) Right Vision (2) Right Resolve (3) Right Speech (8) Right Conduct (5) Right Livelihood (6) Right Effort (9) Right Mind- fulness (8) Right Concentration.
এই যে জীবনদর্শন ভারতবর্ষের সাধকদের, সেই সাধনার সবটুকুই হয়তো প্রযোজ্য নয়। তবুও বলতে পারি, প্রজ্ঞার প্রকৃত স্বরূপ উদ্ভাবনে তাঁর সৃজনশীল কর্ম পরিচালিত। ‘রবীন্দ্রনাথের ভারত-ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে মজিদ মাহমুদ রবীন্দ্র ভাবনায় ‘ভারতের বিশাল ভূগোল একটি রঙ্গমঞ্চ – যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মানুষ এসে বিভিন্ন চরিত্রে নট-নটীর মতো অভিনয় করে একটি অখণ্ড নাটকের অংশে পরিণত হয়েছে। এই উপলব্ধির সহজাত প্রকাশ তাঁর কবিতায়। তবে প্রকাশের ভেতর বাকরীতি ভাবনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য লক্ষ্যণীয়। সেই বৈচিত্রের ভাবনায় তাঁর কবিতা সমকালকে নিয়ে প্রচলিত পথের ঠিকানায় সৌন্দর্যকে অবগাহন করে।
‘সমুদ্র গো আমি যে তোমাকে জড়িয়ে ধরতে চাই
তোমার বুকের প্রাণহারী সব ঢেউ
লুটিয়ে পড়ছে আমার করতলে
চুম্বন তোমার ছুঁয়ে যাচ্ছে অশান্ত অম্বরে
আমি আবারও যাব তোমার জলযোনিতে মিশে
লক্ষ কোটি বছর ধরে এই জলাবর্ত শেষে
আমাকে মানব মাতৃগর্ভে দিও
মানুষের মার জন্য আমার মায়া পড়ে আছে খুব
(সমুদ্র দেখার পরে)
(২)
বিশ্ব সংসারে মানবজীবনের গতিপ্রবাহের সাথে জীবন সমাজ ইতিহাস অর্থনীতি ইত্যাদি যেন একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকে। এই যে থাকার মধ্যেই প্রচলিত সংস্কার বিশ্বাস কালক্রমে ভেঙে যায়, আর ভাঙন-গঠনের সাথে ব্যক্তি মানুষের সম্পর্ক কোন না কোনভাবেই সংযুক্ত হয়ে পড়ে। মজিদ মাহমুদ’র নিরীক্ষাধর্মী গ্রন্থ ‘নজরুল তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র’। তৃতীয় বিশ্বের ধারণাগত বৈশিষ্ট্যে, ইউরোপীয় উপনিবেশের সময়কালে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্ম‘মানব-ঘনিষ্ঠ’ ও জীবনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিশেষত্ব অভূতপূর্ব। এই গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায় ‘নজরুল ও তৃতীয় বিশ্বের কবিতা” এবং উপসংহারে তুলনামূলক প্রাবন্ধিকের মতামত
১) সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে রয়েছে সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব। মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। এই প্রতিবাদের ভাষা লিপিবদ্ধ আছে প্রাচীন মহাকাব্য এবং ধর্মগ্রšে’।
২) নজরুলের আগে পৃথিবীতে বহু বিপ্লব হয়েছে, বহু কবি এসেছেন, যাঁরা সত্য ন্যায়ের বাণী রচনা করেছেন। যে বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ তার ন্যায়ত অধিকারের জন্য জীবন বাজি রেখেছে। নজরুল সেই ধারারই একজন কবি, যাঁরা যুগে যুগে আসেন। ৩) নজরুলের সমগ্র সাহিত্যকর্মের একটি প্রধান অংশ লিখিত হয়েছে তৃতীয় বিশ্বের তথা দারিদ্র মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। যেখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ, পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন সেখানেই নজরুল।
৪) নজরুল কবিতা দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিরোধ করতে চেয়েছেন। ইত্যাদি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
কবি নজরুল ইসলাম তৃতীয় বিশ্বের অনগ্রসর অঞ্চলের অধিবাসী, কিন্তু তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা এবং সৃষ্টিশীলতা ব্যাপক বৈচিত্রের সমাসীন। বামপন্থী চিন্তাদর্শনের রাজনীতিক কমরেড মোজাফ্ফার আহমেদের সাথে কবির বন্ধুত্ব এবং একই সাথে রাজনৈতিক পরিমন্ডলে অবস্থান নজরুলকে ‘রাজনৈতিক চেতনায়’ পথ চলতে সাহায্য করে। ফলে তাঁর মানস ভাবনায় সমাজতন্ত্রের মৌলচেতনা এবং বিশ্বের মানবিক সাহিত্য দর্শন রেখাপাত করে। সেই দর্শন ভাবনার প্রকাশ ঘটে ‘ধূমকেতু’তে। এই ‘ধূমকেতু’তে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আশীর্বাণী’ ছাপা হত-
কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু-
আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,
দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন!
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালে হোক না লেখা
জাগিয়ে দে রে চমক মেরে
আছে যারা অর্ধ-চেতন।
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ২৪ শ্রাবণ, ১৩২৯।
তাহলে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণীর মর্মকথায় উপলব্ধি করা যায় নজরুল নিপীড়িত বিশ্বের কবি। ভারতবর্ষের দুঃখ দুর্দশায় পরাধীনতা থেকে মুক্তির পূর্ণ দাবীপত্র ‘ধূমকেতু’। ‘জয় প্রলঙ্কার’ বলে ধূমকেতু’র পথচলা-
আমি যুগে যুগে আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
এই গ্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু।
কবি মজিদ মাহমুদ ‘তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র’ বলে কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন। যদিও সেই তুলে ধরার সাথে বহুবিধ পর্যায় এবং প্রস্তাবনার বিষয়টি উপস্থাপিত নয়। তবে তাঁর ভাবনার পরিধিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সকলেই জানি, স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভবের সাথে সাথেই স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করেন। ফলে নজরুলকে নিয়ে অগ্রসর হলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শক্তিশালী রূপটি বিশ্ব পরিসরে বিশ্ব সাহিত্যে নবতর সংযোজন হবে। সেই প্রত্যাশা তো কবি মজিদ মাহমুদের লেখায়, ভাবনায় বারবার উদ্ঘাটিত হয়।
(৩)
কবি মজিদ মাহমুদ ‘সুবিন্যস্ত’জীবন ভূমিতে ‘সাহিত্যনীতি’ মেনে চলেন। সেই মেনে চলার রীতি কী বঙ্কিমচন্দ্র বা হোরেসের উপদেশ বাণী থেকে প্রাপ্ত! কিন্তু সেটি যাই হোক না কেন, তার মর্মার্থ বঙ্কিমের কিংবা হোরেসের সাথে মিলনসেতু রচনা করে। বোধ করি মজিদ মাহমুদ তা জানেন বলেই তাঁর লেখা সাহিত্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। তিনি সর্বদা মেনে চলেন হোরেসের উপদেশ বাণী –
ক) যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে লিখিয়া দেশের বা মনুষ্য জাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্যই লিখিবেন।
খ) যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না। কিছুকাল ফেলিয়া রাখিবেন। কিছুকাল পরে উহার সংশোধন করিবেন। তাহা হইলে দেখিবেন প্রবন্ধে অনেক দোষ আছে। কাব্য নাটক উপন্যাস দুই- ই-এক বৎসর ফেলিয়া রাখিয়া তারপর সংশোধন করিলে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে।
গ) যে বিষয়ে যাহার অধিকার নাই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য। কবি মজিদ মাহমুদের বিশ্বাসভূমিতে এই ভাবনা প্রখর বলেই তাঁর লেখার মননশীলতার ভেতর প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে। কোনরকম পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে প্রতিনিয়ত নতুনতর বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সাহিত্যের বিচার পদ্ধতি বিশেষ আকৃষ্ট করতে সক্ষম। তাইতো অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারেন – ‘সাহিত্যকে আমি নিছক সাহিত্য হিসেবে দেখতে নারাজ। সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব বিচারে যে মান্য মাপকাঠি রয়েছে, আমার কাছে তার মূল্য প্রত্নতত্ত্বের মতো।’ তাঁর এই উপলব্ধি আরও ব্যাপকতর, সেজন্য সাহিত্যকে ‘জ্ঞানকান্ডের’ প্রাথমিক উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর প্রবন্ধ সমূহের তালিকা বেশ দীর্ঘ এবং যত্নশীল মননের প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গীতে যুক্তিবাদিতা, ভাষা ব্যবহারে সংযত, বস্তুনিষ্ঠ আবেগ ও মনন, আত্মগত উপলব্ধি স্থান পেয়েছে। উনিশ শতকে যে যুক্তিবাদিতার প্রাধান্য সাহিত্যে স্থান পায়, সেই রূপের জয়যাত্রায় বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে অগ্রসর হয়েছে। রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, আবু সয়ীদ আইয়ুব, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখের যে ধারাটি শক্তিশালী, সেই পথের এ কালের অন্যতম মজিদ মাহমুদ। তিনি যেমন ভাবতে জানেন, অন্যকে ভাবাতেও শেখান। তাইতো মনে পড়ে Essay on criticism(১৬৮৮ ) এর গ্রন্থে পোপ ইংরেজ লেখকদের উদ্দেশ্যে যে পরামর্শ দেন, তা পুনরায় উচ্চারিত করতে পারি
Be Homer’s work your studz and delight,
Read them by day, and meditate by night
Thence from your judgement, thence your maxims bring,
And trace the Muses upward to their spring.
বর্তমানে সমালোচনার রূপটিরও বহু পরিবর্তন সূচিত হয়েছে কী পাশ্চাত্য, কী প্রাচ্যে! সেই পরিবর্তনের ধারায় মজিদ মাহমুদ নিজস্ব শৈলীর স্বতন্ত্র পথরেখা তৈরিতে সক্ষম হবেন বলে প্রত্যাশা করি।
(৪)
মজিদ মাহমুদ, কবিতার ভেতর দিয়ে সমগ্র অনুভবকে ধারণ করেছেন; সেই ধারণার ভেতর শব্দের স্বতন্ত্র উপস্থিতি উপলব্ধি করা যায়। সহজ সরল শব্দের ভেতর জীবনঘনিষ্ঠ উপাদান, ঐতিহ্যের যোগসূত্র, চিত্রকল্পের সমাহার বিশেষ বৈচিত্রে স্থান পেয়েছে।
‘তুমি যখন কথা বলো আমার সাথে, তখন
সময় থেমে যায় গভীর স্তব্ধতায়
ভুলে যাই – পৃথিবীতে কোনদিন রাত এসেছিল কি না
মাস ও ঋতুর গভীর পরিবর্তন; বসন্ত কিংবা শীত
বাইরে আলোকিত জোছনা; ভেতরে গভীর অন্ধকার
এর কোন অর্থ ছিল না।’
এই সহজাত উপলব্ধির দার্শনিক প্রত্যয়ের সাথে জীবনানন্দ দাশের আত্মগত ভাবনার সৌন্দর্য যেন মিশে আছে।
‘কোথাও সান্ত্বনা নেই পৃথিবীতে আজ,
বহুদিন থেকে শান্তি নেই।
(জনান্তিকে: সাতটি তারার তিমির)
(৫)
সময়কালের গ্রোত বয়ে চলে, এই বিশ্ব চরাচরের নিসর্গ সৌন্দরে্যর ভেতর কতকালের দীর্ঘ ইতিহাস জমা পড়ে আছে। সেই ইতিহাসের প্রেক্ষিতকে অবলীলায় বহন করার ক্ষমতা সাহিত্যেরই এবং সাহিত্যই সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্যরূপে একাল থেকে সেকালের সংযোগ সেতু তৈরি করে। আর মানবজীবনের সহজাত উপলব্ধির বিজ্ঞানভাবনায়, তা এক বড়ই রহস্য, সেই রহস্যের উন্মোচন জীবনঘনিষ্ঠতায়। সাহিত্য শিল্পীর কাজই জীবনের অনাগত পথের সৌন্দর্য অনুধ্যান। সেই সৌন্দর্য সৃষ্টিই কবির প্রধানতম ধর্ম হয়ে ওঠে।
আমার শুষ্ক ডালের মধ্যে রয়েছে আগুন/ আগুন মানে ঈশ্বর, জীবনের অক্ষ বিন্দু, হা ঈশ্বর! পাখি আর গাছ, গাছ আর মানুষ/ এই ত্রিভুজ কষ্টের মধ্যে আনন্দ কোথায়।
(গাছজীবন / মজিদ মাহমুদ
জীবনের শাশ্বত উপলব্ধি তাঁর সৃজনশীলতাকে করেছে মহিমান্বিত। বিশ্বব্যাপী সংকট ও ভাবনার অস্থি উপস্থিতির ভেতর মজিদ মাহমুদ মৌলিক পথের অনুসন্ধানী। মানবিক ভাবনার স্বপ্নময় আবেশে তাঁর সৃষ্টিকর্ম অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে।



