Author name: মোস্তাক আহমাদ দীন

বাউল-ফকির-অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার লোকায়ত অঞ্চলে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মোস্তাক আহমাদ দীনের। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিক্ষক। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বইয়ের সংগ্রহ, লোকসাহিত্যিক মামার অনুসরনে মায়ের খাতায় তুলে রাখা পল্লিবাংলার পইপ্রবাদ, শ্লোক ও মহাজনদের পদাবলি তাকে আকৃষ্ট করে। মা একান্ত নিভৃতে গাইতেন সৈয়দ শাহনূর, দীন ভবানন্দ আর রাধারমণের গান; শুনতেন স্থানীয় লোকগায়কদের গাওয়া গান আর আবহমান লোকগীতিকার মর্মান্তিক কিচ্ছা ও কাহিনি। এইসব কারণেই আশৈশব কবিতামগ্ন থাকা সত্ত্বেও মোস্তাক আহমাদ দীনের প্রথম প্রকাশিত দুটি বইই ছিল লোকগানের সংকলন : ‘পরার জমিন’ (রচয়িতা : মকদ্দস আলম উদাসী) এবং ‘নির্বাচিত গান’ (রচয়িতা : আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধরী)। ১৯৭৪ সালে সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণকারী মোস্তাক আহমাদ দীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি অর্জন করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : কবিতাগ্রন্থ- কথা ও হাড়ের বেদনা [২০০১], ভিখিরিও রাজস্থানে যায়, [২০১২], স্ফটিকচূড়ার নিচে, [ ২০২০]। প্রবন্ধগ্রন্থ- কবিতাযাপন, [২০১১], মাটির রসে ভেজা গান, [২০১৭], মননচিন্তা বিবেচনা, [২০১৮], কবিতা পড়ার পরে [২০২৩]।

বাউল সয়াল শাহ ও তাঁর গান

শাহ আবদুল করিমের জীবদ্দশায় তাঁর শিষ্যরা কিংবা আশেপাশে যারা থাকতেন তাদের সকলকেই করিমের গান গাইতে দেখা যেত, নিজেরা গান লিখে থাকলেও কেউই তা সচরাসচর প্রকাশ করতেন না। এ-কারণে করিম-শিষ্য সয়াল শাহ যে গান লেখেন, তা জানতে পারি তাঁর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার বহু বছর পর। তাঁর বইয়ের পাণ্ডুলিপি যখন হাতে এল, বুঝলাম তাঁর অধিকাংশ গান পূর্বসূরি

বাউল সয়াল শাহ ও তাঁর গান Read More »

গোলাপ ফোটার গোপনীয়তা

গল্প কী? গল্প আসলে তেমন কিছু না। আমার কিংবা আপনার কথা তোমাকে বা তাকে শোনানো। এই ক্ষেত্রে আমি বা আপনি বক্তা হলে তুমি বা সে শ্রোতা। আমি বা আপনি লেখক হলে তুমি বা সে পাঠক। ‘আমার’ কথাই মূলত গল্প। কেমন করে যাই, কেমন করে গাই, কেমন করে বাঁচি-মরি, কেমন করে ভালোবাসি, মুখ ভেংচাই, দাড়ি কাটি,

গোলাপ ফোটার গোপনীয়তা Read More »

সংবাদপত্র পোড়া ছাই দিয়ে তৈরিকৃত পুতুলের বয়ান

১ এক ভোর। চমৎকার একটা ড্রইংরুম। যেখানে বসার সোফা তার পিছনের দেয়ালে শিংসহ হরিণের মাথা আর তার নিচে চামড়া টাঙানো আছে। ছবির নিচে হাতের চমৎকার লিপিতে লিপিত আছে- ‘ঋষ্যশৃঙ্গসহ ঋষ্যের মস্তক এবং ঐণেয়। ঐণিক : বরিদুর রহমান।’ সংবাদপত্র হাতে নিয়ে বসে আছে মতিয়া। সংবাদপত্রের ভেতর থেকে বেশকিছু উকুন বেরিয়ে মতিয়ার মাথার দিকে হাঁটা ধরে। হাঁটার

সংবাদপত্র পোড়া ছাই দিয়ে তৈরিকৃত পুতুলের বয়ান Read More »

কার্লোস হুগো গ্যারিডো শালেনের কবিতা

পেরুর স্প্যানিশভাষী কবি কার্লোস হুগো গ্যারিডো শালেন বিশ্বসাহিত্যে একটি পরিচিত নাম। পেরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কালচার (INC) তাঁকে লিভিং কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ট্রুজিলো’র জাতীয় ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও আইনে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি পেরুর টাম্বেস প্রদেশের জোরিটস জেলায় ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ১৯৭০ সাল থেকে ৭৬ সাল

কার্লোস হুগো গ্যারিডো শালেনের কবিতা Read More »

বছরের পর বছর আমার বইয়ের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে—হারুকি মুরাকামি

জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামি। তাঁর উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প জাপান ও বিশ্বজুড়ে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। হারুকি মুরাকামির লেখা অনূদিত হয়েছে ৫০টি ভাষায়। এখানে তার একটি অনূদিত সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হলো। এটি প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি থেকে বাংলায় ভাষান্তর করেছেন রবিউল কমল। ‘দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস সার্টেন ওয়ালস’ ১৯৮০ সালে আপনার লেখা একটি উপন্যাস।

বছরের পর বছর আমার বইয়ের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে—হারুকি মুরাকামি Read More »

ষড়যন্ত্র ও ইতিহাসের সত্য মিথ্যা : প্রসঙ্গ বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫

প্রাসঙ্গিক কথা : ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ হল এবং এ নিয়ে আনন্দ যেমন আছে, তেমন আছে মায়া কান্না। মায়া কান্না মূলত দেখানো হয় জাতীয়তাবাদের কথা বলে। আর সে জাতীয়তাবাদ ইতিহাসের কালো অধ্যায় রচিত করেছে বহু আগে। অর্থাৎ যাকে জাতীয়তাবাদ বলা হচ্ছে তা সত্যিকার অর্থে হিন্দুত্ববাদ। তবে এ কথাও ইতিহাসে প্রমাণিত জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে এ দেশে শুরু

ষড়যন্ত্র ও ইতিহাসের সত্য মিথ্যা : প্রসঙ্গ বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ Read More »

ছিনতাই হওয়া কবিতা

দ্বিধাগ্রস্ত রাস্তার মাঝে এসে বুড়ো হয়ে গেছি বহগামী যানবাহন বাড়িয়ে দিচ্ছে দ্বিধা ভুলে যাচ্ছি যাত্রাপথ, আপন ঠিকানা। দুপাশে রাশি রাশি মানুষ কানের কাছেও মাছি ভন ভন কাউকেই যায় না চেনা কুকুর না হায়েনা। সকলেরই দৃষ্টিকটু বানান মুখস্ত করা মানুষও যুক্ত হচ্ছে নতুন ওই দলে। ছিনতাই হওয়া কবিতা ছিনতাইকারীর হাতটাও মানুষের ছিল। মুখে মাখা দাঁড়িও ছিল।

ছিনতাই হওয়া কবিতা Read More »

সময় এক ইরেজার

অভাব কত কিছু হারিয়ে যায় নদী মরে শুয়ে পড়ে নালায় কল থেকে উড়ে যায় জল বাল্ব ছেড়ে নিভে আসে আলো তুমি ছিলে কিছুখানি কাছে এখন গিয়ে করেছে ভালো। কত কিছু ভেঙে পড়ে অজান্তে হাত থেকে ছিটকে যায় গ্লাস ধেয়ে আসে ঝড়ঝঞ্জার দিন সঞ্চয় বলতে যা ছিল গেল অভাবের দিনে বাড়ন্ত চাল এমনকি দ্রুত ফুরিয়ে আসে

সময় এক ইরেজার Read More »

অভাবের মুদ্রা

নির্ঝরতা মেহগনি বৃক্ষে কচিপাতার সমারোহ, আর পথে-বিপথে শুকনো পাতারা যেন ব্রুনাই নদীর ভাসমান বন্দর সূর্যাস্তের এনামেল পেইন্ট বার্জার করে রেখেছে আকাশ। গোরস্থানে এলে নির্ঝরতা, পাখির কাশিদা, কাঠবিড়ালির খুনশুটির মাঝে, বাষ্পীয় চোখের জল স্ক্যানিং করে প্রিয় মানুষের মুখ আতাফল বৃষ্টির সাইবার গেম আকাশের পাড়ায় ঘাটে বাঁধা সিড়িগুলো যেন একে একে গিলে ফেলছে কেউ সময় অসময়ে বসে

অভাবের মুদ্রা Read More »

হেমন্তের এই হাওয়ায়

একদিন একদিন ভুলে যাবে; কিছুতেই মনে আসবে না আমার নামধাম; জায়নামাজের মতো ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখবে কালঘরে; স্মৃতির মিউজিয়ামে। একদিন নৈঃশব্দ্য ঝড় এলে আমার সমস্ত কবিতা খুলে খুলে অসংখ্য শব্দ, অসংখ্য অক্ষর ঝরে যাবে অনাদরে; পাখিদের বনে। একদিন আমার সমস্ত বিষণ্নতা উড়ে যাবে মেঘদেশে; মন খারাপের মেঘে বৃষ্টি হলে তুমি বলো কান্না। তালাবদ্ধ ঘরকে ডেকো

হেমন্তের এই হাওয়ায় Read More »