Author name: কবীর হোসেন

কবীর হোসেন গত শতাব্দীর নয়ের দশকের বাংলা কবিতার ব্যতিক্রমী কণ্ঠ। জন্ম বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের নদীনালা মুখরিত চন্দ্রদ্বীপ বরিশালে, ১ জানুয়ারি ১৯৭৩। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় সমান বয়েসি তিনি। মাধ্যমিক পাঠ চুকে ঢাকায় এসে যখন কলেজে ভর্তি হন তখন স্বৈর শাসনের সাইরেন, রাজপথে জলপাই রঙের গাড়ি। তারপর তুমুল একাকীত্ব চেপে বসলে কবিতার কাছে আশ্রয় নেন। এ যাবত ৯টি একক ও একটি যৌথ কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। জলবায়ুর অভিযোজন ও নারীর সংগ্রাম নিয়েও তিনি একাধিক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন। প্রকাশিত কবিতার বই : সুগন্ধী রুমাল (১৯৯৩), জলের মিছিল (যৌথ-১৯৯৪), নিসর্গের গ্রীণকার্ড (১৯৯৯), শীতপত্র কবি (২০০১), পায়ে পায়ে দাঁড়ি কমা (২০১৮), মুদ্রিত শিহরণ (২০১৯), গাছ উড়ে যাচ্ছে পাখির বিরহে (২০২০), বাছাই করা একশো কবিতা (প্রথম প্রকাশ-২০২১), মঙ্গল গ্রহের আড্ডা (২০২২), কালিঝুলির অক্ষর (২০২৪)।

ছিনতাই হওয়া কবিতা

দ্বিধাগ্রস্ত রাস্তার মাঝে এসে বুড়ো হয়ে গেছি বহগামী যানবাহন বাড়িয়ে দিচ্ছে দ্বিধা ভুলে যাচ্ছি যাত্রাপথ, আপন ঠিকানা। দুপাশে রাশি রাশি মানুষ কানের কাছেও মাছি ভন ভন কাউকেই যায় না চেনা কুকুর না হায়েনা। সকলেরই দৃষ্টিকটু বানান মুখস্ত করা মানুষও যুক্ত হচ্ছে নতুন ওই দলে। ছিনতাই হওয়া কবিতা ছিনতাইকারীর হাতটাও মানুষের ছিল। মুখে মাখা দাঁড়িও ছিল।

ছিনতাই হওয়া কবিতা Read More »

সময় এক ইরেজার

অভাব কত কিছু হারিয়ে যায় নদী মরে শুয়ে পড়ে নালায় কল থেকে উড়ে যায় জল বাল্ব ছেড়ে নিভে আসে আলো তুমি ছিলে কিছুখানি কাছে এখন গিয়ে করেছে ভালো। কত কিছু ভেঙে পড়ে অজান্তে হাত থেকে ছিটকে যায় গ্লাস ধেয়ে আসে ঝড়ঝঞ্জার দিন সঞ্চয় বলতে যা ছিল গেল অভাবের দিনে বাড়ন্ত চাল এমনকি দ্রুত ফুরিয়ে আসে

সময় এক ইরেজার Read More »

অভাবের মুদ্রা

নির্ঝরতা মেহগনি বৃক্ষে কচিপাতার সমারোহ, আর পথে-বিপথে শুকনো পাতারা যেন ব্রুনাই নদীর ভাসমান বন্দর সূর্যাস্তের এনামেল পেইন্ট বার্জার করে রেখেছে আকাশ। গোরস্থানে এলে নির্ঝরতা, পাখির কাশিদা, কাঠবিড়ালির খুনশুটির মাঝে, বাষ্পীয় চোখের জল স্ক্যানিং করে প্রিয় মানুষের মুখ আতাফল বৃষ্টির সাইবার গেম আকাশের পাড়ায় ঘাটে বাঁধা সিড়িগুলো যেন একে একে গিলে ফেলছে কেউ সময় অসময়ে বসে

অভাবের মুদ্রা Read More »

হেমন্তের এই হাওয়ায়

একদিন একদিন ভুলে যাবে; কিছুতেই মনে আসবে না আমার নামধাম; জায়নামাজের মতো ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখবে কালঘরে; স্মৃতির মিউজিয়ামে। একদিন নৈঃশব্দ্য ঝড় এলে আমার সমস্ত কবিতা খুলে খুলে অসংখ্য শব্দ, অসংখ্য অক্ষর ঝরে যাবে অনাদরে; পাখিদের বনে। একদিন আমার সমস্ত বিষণ্নতা উড়ে যাবে মেঘদেশে; মন খারাপের মেঘে বৃষ্টি হলে তুমি বলো কান্না। তালাবদ্ধ ঘরকে ডেকো

হেমন্তের এই হাওয়ায় Read More »

নারীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

গৃহপালিত স্বামী, লেখক : গীতা দাস, ধরন : গল্প, প্রকাশ : ২০২৪, প্রকাশক : প্রতিকথা বইয়ের নামকরণের মধ্য দিয়ে বইটির লেখার বিষয়বস্তুর আঁচ পাওয়া যায়। লেখক গীতা দাস জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণি নির্বিশেষে একটা নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে গল্পগুলো লেখার চেষ্টা করেছেন। তাই তিনি গৃহিনীর বিপরীতে ‘হাউজ হাজব্যান্ড’ এবং ‘গৃহপালিত স্বামী’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ

নারীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট Read More »

চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব ১৪৩২

চরনিকেতন দিলো ডাক, এসো হে বৈশাখ চরনিকেত বৈশাখী সাহিত্য উৎসব ১৪৩২। ১৪-১৬ এপ্রিল ২০২৫ চরনিকেতন, ওসাকা, চর গড়গড়ি, ইশ্বরদী, পাবনা সম্পাদকashramsanglap.com

চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব ১৪৩২ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১০

পর্ব-১০ এটি ছিল আমার নির্বাক জীবনে কোলকাতা পর্বের শেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অর্ধশত বছর আগে অখণ্ড বাংলার রাজধানীতে আমার কর্মময় জীবনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল—মাত্র দুই দশকের মধ্যে এক অজানা কারণে সেই উত্তুঙ্গ সৃষ্টিশীলতা নির্বাপিত হয়ে গেলেও প্রাণবায়ু এখনো ক্ষীণ উজ্জীবিত। আমার সত্তরতম জন্মবার্ষিকীর উৎসবকে কেন্দ্র করে এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার রবীন্দ্রসদনে আমার সংবর্ধনার আয়োজন

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ১০ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৯

পর্ব-৯ লন্ডন ও ভিয়েনা থেকে ফিরে আসার পরে আমার পরিবার নিশ্চিত যে, আমি আর কখনো কথা বলতে পারব না, গান কবিতা লিখতে পারব না, যতদিন বাঁচি এই পঙ্গুত্ব নিয়ে আমাকে থাকতে হবে। সবাই কিছুটা নির্ভার হয়ে সংসার-কর্মে মন দিতে শুরু করেছে। শাশুড়ি নেই, প্রমীলা পঙ্গুত্ব নিয়েই বেশ শক্তভাবে সংসারের হাল ধরেছে। সানি ও নিনি এখন

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৯ Read More »

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৮

পর্ব-৮ আজ ৮ জুন ১৯৫৩ সাল, আমি লন্ডনে এসে পৌঁছালাম। সুস্থ অবস্থায় লন্ডনে আসতে পারি নি। বেড়াতে আসারও সামর্থ্য ছিল না—লেখাপড়ার জন্য তো নয়ই। আমি যাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি, যাদের কর্মে ও দর্শনে আকৃষ্ট ছিলাম, তাদের অনেকে লন্ডনের স্কুলে পড়েছিল। এমনকি রবীন্দ্রনাথ অরবিন্দ—আমার গুরু হলেও তাদেরও প্রধান পাঠ ছিল এই লন্ডনে। গান্ধী, জিন্নাহ, নেহেরু এই

তুমি শুনিতে চেয়ো না : ৮ Read More »